ওয়ানডেতে ৩ নম্বরের জন্য একজন ব্যাটসম্যান খুঁজছে বাংলাদেশ

ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে ৩ নম্বর পজিশনের জন্য একজন পারফেক্ট ব্যাটসম্যান খুঁজছে বাংলাদেশ।  সেদিন আফগানদের বিপক্ষে ইমরুল কায়েসের নড়বড়ে ৩৭ রানের ইনিংস আশ্বস্ত হওয়ার মতো নয় মোটেও। টেস্টে মমিনুল ও টি-টোয়েন্টিতে সাব্বির যেমন ওয়ান ডাউন পজিশনে ভালো করেন ওয়ানডেতে এর অভাব রয়েছে।

৫০ ওভারের ফরম্যাটে সাম্প্রতিককালে অমনটা পারেননি কেউ। সম্ভাবনা ছিল সৌম্য সরকারের ব্যাটে, তবে হারিয়ে গেছে তা। এর আগে-পরে ওয়ানডেতে ৩ নম্বর পজিশনের হাহাকার যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরন্তন সমস্যা। টেস্টে মমিনুল অবিশ্বাস্য সাফল্য পান ৪ নম্বরে। কিন্তু ২০১৪-র শেষদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে ম্যানেজমেন্ট তাঁকে উঠিয়ে আনে তিনে।

খেলানো হয় পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজেও। ৮ টেস্টে ৪৮.২৫ গড়ে ৫৭৯ রান করে ৩ নম্বরেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন মমিনুল। টি-টোয়েন্টিতে যেমনটা করেন সাব্বির। সাকিব আল হাসানও ওখানে ছিলেন বেশ সফল। কিন্তু দলের সাফল্যের প্রয়োজনে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে তিনে তোলেন সাব্বিরকে, এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে। দ্বিতীয় ম্যাচে শুধু এনামুল হককে দিয়ে চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু কাজ হয়নি। ওই এক ম্যাচ বাদ দিয়ে বছরের বাকি ১৬ টি-টোয়েন্টিতে ৩ নম্বরে খেলেন সাব্বির। ৩৫.৬১ গড় এবং ১২৭.৫৪ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৬৩ রান, যা এ ফরম্যাটে যেকোনো পজিশনেই দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। টেস্টে ও টি-টোয়েন্টিতে যেমন তিনে থিতু দুই ব্যাটসম্যান, ওয়ানডেতে মোটেই তা নয়। ২০১৪ সালের শুরু থেকে ধরলে ৩৭ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ ম্যাচে ৩ নম্বরে ব্যাট করেন মমিনুল হক। পঞ্চাশ পেরোনো তিন ইনিংসে ২৯.৬০ গড়ে সর্বোচ্চ ২৯৬ রান তাঁর। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ এবং এশিয়া কাপে এই পজিশনে প্রথম পছন্দ ছিলেন মমিনুল।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও। কিন্তু বিবর্ণ হতে থাকা ওই বাঁহাতির জায়গায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নামানো হয় মোহাম্মদ মিঠুনকে। তৃতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ব্যাটিং করতে পারেনি। করলে সেখানেও খেলার কথা ছিল মিঠুনের। এরপর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। সেখানে তিন ওয়ানডেতে ৩ নম্বরে খেলেন ইমরুল। ৯, ১ ও ১ রান করে ম্যানেজমেন্টের আস্থা হারিয়ে ফেলেন দ্রুত। বছরের শেষদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পাঁচ ম্যাচে ওই পজিশনে খেলানো হয় চারজনকে—মমিনুল, সাকিব, ইমরুল ও সৌম্য। শেষের জনের আবার শেষ ম্যাচে হয় অভিষেক। তাঁর মধ্যে প্রতিভার ঝলক দেখে বিশ্বকাপেও তিনে খেলানো হয় সৌম্যকে।

ব্যতিক্রম কেবল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ, যেখানে এনামুলের ইনজুরির কারণে ওপেনিংয়ে উঠতে হয়। অন্য খেলাগুলোয় দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সৌম্য প্রতিশ্রুতি দেন পজিশনটি নিজের করে নেওয়ার। কিন্তু পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো মাত্রায় ওপেনার হয়ে যান সৌম্য। আবার সমস্যায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে চেষ্টা হয় মাহমুদ উল্লাহকে দিয়ে। ৫, ১৭ ও ৪ রান করে ব্যর্থ তিনি। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের দুই সিরিজের বাজি লিটন। তিনি ব্যর্থ চরমভাবে (৮, ৩৬, ৩৪, ০, ১৭, ৫*)। আর বছর শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচে মাহমুদ (৯), লিটন (৭) ও মুশফিক (২৮) পারেন না ভালো করতে।

সব মিলিয়ে এ সময়ে ৩ নম্বরে খেলে সৌম্য ছয় ইনিংসে ৩২.১৬ গড়ে ১৯৩ রান করে সফলতম। লিটন (৭ ম্যাচে ১০৭), মাহমুদ (পাঁচ ম্যাচে ৯৭), ইমরুল (পাঁচ ম্যাচে ৫৩), মিঠুন (দুই ম্যাচে ২৬), মুশফিক (এক ম্যাচে ২৮), সাকিব (০)—সবাইকেই রাখতে হবে ব্যর্থদের তালিকায়। প্রথম ওয়ানডের আগেই এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মাশরাফিকে। উত্তরও দিয়েছেন তিনি, ‘গত দেড় বছরের পারফরম্যান্স যদি দেখেন, তাহলে ৩ নম্বরে যারা খেলেছে, খুব একটা খারাপ খেলেনি। হয়তো আমরা বেশ অদলবদল করে খেলিয়েছি। তা দলের সমন্বয় এবং প্রতিপক্ষের কথা চিন্তা করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এখানে যারা ব্যাটিং করছে, তারা স্বচ্ছন্দ কি না।

তা না হলে সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের এখানে খেলা ব্যাটসম্যানরা স্বচ্ছন্দ।’ ওয়ানডের তিনে খেলা ব্যাটসম্যানরা ‘স্বচ্ছন্দ’ হলেও পরিসংখ্যানে এর ছাপ নেই। বাংলাদেশের টপ অর্ডারে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে পারছেন না কেউ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে এই স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে খুব করে তাকিয়ে থাকবে টিম ম্যানেজমেন্ট।