এবার ‘আসল’ ম্যাচে লড়াইয়ের আভাস

প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ লড়েছে ইংল্যান্ড ও বিসিবি একাদশ। ‘আসল’ ম্যাচে অর্থাৎ ওয়ানডে সিরিজে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অপেক্ষা করছে, তা অনুমান করাই যাচ্ছে। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ম্যাচে ইংলিশরা বিসিবি একাদশকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে।

ফতুল্লায় আগে ব্যাট করতে নেমে বিসিবি একাদশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ২৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশদের। বাংলাদেশে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারের শুরুটা হলো জয় দিয়েই।

প্রস্তুতি ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছেন ইমরুল কায়েস। প্রস্তুতি ম্যাচ না হলে নিশ্চিত ইমরুলের নামের পাশে ‘বড়’ একটি সেঞ্চুরি যোগ হতো। ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা সৌম্য করেন মাত্র ৭ রান। একই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নামা ইমরুল সেখানে দ্যুতি ছড়িয়ে করেন ১২১ রান। ৯১ বলে ১১ চার ও ৬ ছক্কায় ইমরুল তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন।

হাফ সেঞ্চুরি পেতে ইমরুল বল খরচ করেন ৪৬টি। পরের ৫০ রান তোলেন মাত্র ৩৬ বলে। যে ৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তার ৩টিই গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে। আফগানিস্তান সিরিজে লেগ স্পিনার রশিদ খানে ভুগেছে বাংলাদেশ। সেখানে ইমরুল ইংলিশদের সেরা লেগ স্পিনার আদিল রশিদের ১৪ বলে নিয়েছেন ৩০ রান। দুটি ছক্কাও হজম করতে হয়েছে রশিদকে।

বাঁহাতি পেসার ডেভিড উইলির বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার থেকেই বেশি রান আদায় করেন ইমরুল। ২২ বলে করেন ৩৩ রান। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উইলিকে যে দুটি ছক্কা মেরেছেন, তা শুধু মুগ্ধতাই ছড়ায়নি বরং পরিণত বাংলাদেশের পার্থক্য বুঝিয়েছে।

ব্যাটিংয়ে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। বিসিবির ঘোষিত দলে না থাকলেও নিজ থেকেই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন মুশফিক। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান। নাসির হোসেন কেন ম্যাচের পর ম্যাচ একাদশের বাইরে থাকবেন, তিনি এখন সেই প্রশ্ন তুলতেও পারেন গ্রুপ মিটিংয়ে!

নাসিরের ৪৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রানের ইনিংসটি যে ছিল দেখার মতো। স্ট্রাইক রোটেট করার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি মেরে দ্রুত রান তোলেন রংপুরের এই তারকা। এ ছাড়া টপ অর্ডারে রান পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৬ রান করেন সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ পেরিয়ে আসা এই ক্রিকেটার।

বোলিংয়ে ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন ক্রিস ওকস। ডেভিড উইলি ও বেন স্টোকস নেন ২টি করে উইকেট।

৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ রানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার জেসন রয় ও জেমস ভিন্স। আল-আমিন হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মানিক আলী আহমেদের শর্ট বলগুলোকে দাপটের সঙ্গে বাউন্ডারিতে পাঠান দুই ওপেনার। নবম ওভারে বিসিবি একাদশ প্রথম সাফল্য পায়।

পেসার হান্ট থেকে উঠে আসা এবাদত হোসেন নিজের প্রথম ওভারে জেসন রয়কে আউট করেন। ২২ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৮ রান করেন রয়। এরপর ভিন্সকেও (৪৮) নিজের শিকারে পরিণত করেন এবাদত। স্কোরবোর্ডে ৭১ রান যোগ করতে আরো ৩ উইকেট হারায় ইংলিশরা। জনি বেয়ারস্টো (১১), বেন ডাকেট (২৯) ও বেন স্টোকস (২৮) সাজঘরে ফেরেন।

অধিনায়ক বাটলার মাঠে নামার পর আর পেছনে ফিরে তাকাকে হয়নি ইংল্যান্ডকে। ষষ্ঠ উইকেটে মঈন আলীকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৯ রানের জুটি গড়েন। সেখানেই ম্যাচ হেরে যায় বিসিবি একাদশ। জয়ের থেকে ১ রান দূরে থাকতে মঈন ৭০ রান করে আউট হলেও বাটলার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮০ রানে। তার ৬৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ৪ ছক্কার মার।

ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দলে থাকা পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্যে ইমরুল ও মুশফিক নিজেদের শতভাগ ঝালিয়ে নিতে পেরেছেন। নাসির হোসেন ব্যাটিংয়ে দূত্যি ছড়ালেও বোলিংয়ে পারেননি। এ ছাড়া ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরে আসা আল-আমিন হোসেন ৯ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে নিয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। সৌম্য ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে ২ ওভারে খরচ করেছেন ১৮ রান।