একজন লেগ স্পিনারের কান্না

শেন ওয়ার্ন-মুশতাক আহমেদের পর নামকাওয়াস্তে লেগস্পিনার দুনিয়ায় কম আসেননি। অমিত মিশ্র, ইমরান তাহির, স্যামুয়েল, বদ্রীরা কমবেশি সাফল্যও পেয়েছেন। কিন্তু, যে ক্ল্যাসিক টার্ন দেখার অপেক্ষায় সবাই চেয়ে থাকে লেগস্পিনারের দিকে; সেটাই যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল ওয়ার্নদের সঙ্গে।

সম্প্রতি পাকিস্তান ইয়াসির শাহ সাফল্য পাচ্ছেন। বাংলাদেশে এসে দুই রশিদ – ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ ও আফগানিস্তানের রশিদ খানও বুঝিয়ে দিলেন লেগ স্পিন শিল্পের মৃত্যু ঘটেনি।

একটা সময় ছিলো যখন টেস্ট ক্রিকেটে বোলাররা শুধু উইকেট নেয়ার কথাই ভাবতো, ওয়ানডে ক্রিকেটে ভাবতো রান আটকানোর কথা।

যুগ পাল্টেছে, এখন ওয়ানডে ক্রিকেটেও সবার আগে উইকেট নেয়ার কথা ভাবা হয়, কারণই উইকেট পতনই সকল পতনের মূল। সেজন্য প্রতিটা দলই এখন আধুনিক ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদের দিকে ঝুঁকছে। কারণ লেগ স্পিনাররা মাঝে মধ্যে বাড়তি রান দিলেও তারাই প্রকৃত উইকেট শিকারী।

শুধু ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সিরিজগুলাতেই আমরা দেখেছি বাংলাদেশের পিচে কিভাবে আদিল রশিদ বা রশিদ খানরা স্পিন ঘূর্ণি দিচ্ছেন আর উইকেট শিকার করছেন। সেখানে স্বাগতিক কিংবা উপমহাদেশীয় দল হয়েও আমাদের কোন লেগ স্পিনার নেই দলে।

উপমহাদেশের দেশগুলা খেয়াল করলে দেখা যায় সব দলেই লেগ স্পিনাররা কম-বেশি খেলেন। ইয়াসির শাহ এখন পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। সেটা তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েও প্রমান করে এসেছেন।

ভারতের হয়ে সর্বশেষ ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সাফল্য পেয়েছেন অমিত মিশ্র। এর আগে অনিল কুম্বলে-পীযুষ চাওলারা তো ছিলেনই। শ্রীলঙ্কায় আছেন সেকুগ্গে প্রসন্ন ও জীবন মেন্ডিস।

এমনকি আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা আফগানিস্তানেও আছে রশিদ খানের মতো প্রতিভাবান স্পিনার যিনি আমাদের ব্যাটিংকে কাপিয়ে দিয়েছেন। আমাদের জুবায়ের হোসেন লিখন আছেন অবশ্য, তিনি জাতীয় দলে নিয়মিত নন। তার পরিচর্যাটা ঠিক মত করেছি তো আমরা? নাকি তাকে খেলানোর মত যথেষ্ট সাহসী নয় টিম ম্যানেজমেন্ট?

একজন লেগ স্পিনার একটু গোল পাঁকালেই ম্যাচের যেকোন সময় সে ১৫-২০ রানের একটা ওভার করে ফেলতে পারেন। কিন্তু, তারপরও তার ওপর থেকে ভরসা হারালে চলবে না। অধিনায়ককে ঝুঁকি নিয়ে হলেও খেলাতে হবে, বাজিটা ধরতেই হবে।

গত বছর বিপিএলেও লিখন কোনো দল পাননি। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ম্যাচ পাননি। একজন লেগস্পিনারের পরিনতি যদি এই হয় তাহলে কেউ কেন লেগ স্পিনে আগ্রহী হবেন? এর ওপর তার পরিচর্যা করাটাও সাদা হাতির যত্ন নেওয়ার মত বিষয়।

এমন অবহেলা তাদের প্রতি সব সময় থাকে বলেই বাংলাদেশে লেগ স্পিনাররা সোনার হরিণ। হয়তো একদিন তাদের ‘বিলুপ্ত প্রজাতি’ বলে ঘোষণা করতেও বাধ্য হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। — খেলাধুলা