এই মাত্র জানা গেল, যে কারণে দলের বাহিরে নাসির

সর্বশেষ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর থেকেই জাতীয় দলের একাদশে নেই ‘মিস্টার ফিনিসার’ খ্যাত নাসির হোসেন। তাকে দলে নিতে ভক্তরা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রীতিমত আন্দোলন শুরু করেছেন।

আর এ বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টও প্রতক্ষ্য করেছেন। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কথায় পরিষ্কার, আগামী কালকের ম্যাচে যদি দলে একটি রদ-বদল হয়, তাহলে সেটা হবে রুবেলের জায়গায় নাসির।

তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মোশারাফ রুবেলকে খেলানোর পক্ষেই মত দিয়েছেন। নাসিরকে না খেলানো এবং মোশাররফ রুবেলকে খেলানোর কারণ জানতে চাওয়া হলে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘মুলতঃ টিম কম্বিনেশনের কথা মাথায় রেখেই নাসিরকে বাইরে রাখা হচ্ছে।’

খালেদ মাহমুদের যুক্তি, ‘আমাদের দলে তিনজন একই ক্যাটাগরির ক্রিকেটার আছে- মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নাসির হোসেন। তিনজনই মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনার। আমরা যদি তিনজনকে একসঙ্গে খেলাই, তাহলে দলে বৈচিত্র্য কমে যায়।

গঠন শৈলিতে কোনরকম বৈচিত্র্য থাকে না। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অটোমেটিক চয়েজ। মোসাদ্দেক সৈকতও সাম্প্রতিক সময় ফর্মের চুড়ায়। তাই আমরা রিয়াদের সঙ্গে সৈকতকে বেছে নিয়ে নাসিরকে বাইরে রেখেছি।’

নাসিরের মেধা ও যোগ্যতার ওপরও আস্থা রয়েছে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের। তিনি বলেন, ‘তার মানে এই নয় যে, নাসির খারাপ পারফরমার কিংবা তার প্রতি আমাদের কোন আস্থা নেই। আমরা জানি তার মেধা, প্রজ্ঞা ও সামর্থ্য কতটা; কিন্তু তারপরও নাসিরকে খেলানোর সুযোগ পাচ্ছি না।’

মোসাদ্দেক সৈকতকে খেলানোর যুক্তি দিয়ে টিম ম্যানেজার বলেন, ‘মোসাদ্দেক

সৈকত আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে বল ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাকে কি করে এক ম্যাচ পর বাদ দেয়া যায়? তিন তিনজন মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনার এক সঙ্গে খেলানোর যৌক্তিকতাও কম। ক্রিকেটীয় যুক্তিতে কেউ তা সমর্থনও করবেন না।’

এসব যুক্তির বিচারেই নাসির বাইরে বলে মন্তব্য করেন ম্যানেজার সুজন। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা নাসিরকে বাইরে রেখে বাঁ-হাতি স্পিনার মোশাররফ রুবেলকে একাদশে রেখেছি। সে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভাল বল করে তিন উইকেটের পতনও ঘটিয়েছে। তাকে পরের ম্যাচে ড্রপ করা কঠিন ছিল।’

খালেদ মাসুদ আরও যোগ করে বলেন, ‘মোশাররফ রুবেল শুক্রবার ব্যর্থ হয়েছে সত্য; কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাকে যখন ব্যবহার করা হয়েছ তখন ক্রিজে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বাঁ-হাতি স্পিনারের সমীহ আদায় করা কঠিন।

ধরা যাক, নাসির ঐ ম্যাচে খেলতেন, আর তার বোলিংয়ের সময় দু-প্রান্তে দু’জন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ব্যাট করতো। তাহলে তারও ব্যর্থ হবার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকতো। তখন আমরা কি করতাম? মাহমুদউল্লাহ আর সৈকতও তো একই ক্যাটাগরির বোলার।’

গেম প্ল্যানে রুবেলকে রাখার যুক্তি দিয়ে সুজন বলেন, ‘মোদ্দা কথা, তিন পেসারের পাশাপাশি সাকিব এবং আরেকজন বাম হাতি স্পিনার- এই পাঁচজন হচ্ছে আমাদের গেম প্ল্যান অনুযায়ী বোলার। এর বাইরে রিয়াদ ও সৈকত। এমনকি এর বাইরে সাব্বিরও আছে।

এখন যদি রুবেলকে বাইরে নিয়ে নাসিরকে খেলানো হয়, তাহলে একটা বোলিং বিকল্প কমে যায়। বোলিং ডিপার্টমেন্টে তো দুজন অফস্পিনার আছেই। তার সাথে নাসির যোগ হলে তিনজন। আর সাকিব একা। এতে করে স্পিন ডিপার্টমেন্টটা প্রায় একরকম হয়ে যায়। তাই নাসিরকে না নিয়ে রুবেলকে একাদশে রাখা।’

কিন্তু রুবেলতো নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাতাস ও গতি প্রকৃতির সঙ্গে তাল মেলাতে কষ্ট হচ্ছে তার। খালেদ মাহমুদ সুজন তা মানতে নারাজ। তার ব্যাখ্যা, মনে রাখতে হবে রুবেল বেশ অনেক দিন পর জাতীয় দলে ফিরেছে। আর দলে নতুন করে এসে বল হাতে সাফল্যও পেয়েছে। তাই খেলানো হচ্ছে।

রুবেলের প্রশংসা করে সুজন বলেন, ‘শুক্রবার তাকে যত অনুজ্জ্বল ও ব্যর্থ পারফরমার মনে হয়েছ, রুবেল তত খারাপ নয়। ঘরোয় ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে ভাল খেলার রেকর্ড আছে। আর তার বোলিং নিয়ে আমি তেমন নেতিবাচক কিছু বলবো না। কারণ সে যখন বল করেছে, তখন উইকেটে ছিল দুজন বাঁ-হাতি। একজন বাঁ-হাতি স্পিনারের পক্ষে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে ভাল বল করা এবং সমীহ আদায় কঠিন।

তবে আমি নিজেও তার ব্যাটিং দেখে অবাক হয়েছি। ও তো ঘরের ক্রিকেটে এর চেয়ে অনেক ভাল ব্যাট করে। ওখানে গিয়ে ব্যাটেই বল লাগাতে পরছিল না। মনে হয় অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার কারনেই ছন্দ পেতে সমস্যা হচ্ছে।’

রুবেলকে খেলানোর পক্ষে মত দিলেও টাইগার ম্যানেজারের শেষ কথা শুনে মনে হয়েছে, নাসিরকে খেলানোর চিন্তাও আছে তাদেও মাথায়। তাই মুখে এ কথা, ‘নাসির না মোশাররফ রুবেল! তা নিয়ে আলোচনা করবো টিম মিটিংয়ে। মিটিংয়ে কথা-বার্তা হবে।

আলোচনা-পর্যালোচনার পরই ঠিক হবে, আমরা দু জন বাঁহাতি স্পিনার নিয়েই নামবো, নাকি সাকিবের সাথে তিন তিনজন পার্টটাইম অফস্পিনার খেলানো হবে?’