আমার অভিষেকের দিনেও এতো টেনশনে ছিলাম না : তাসকিন

বলতে গেলে পরাজয় নিশ্চিত কিন্তু অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে জিতে যায় বাংলাদেশ। বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন সদ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের পেসার সেনসেশন তাসকিন আহমেদ। এই ডানহাতি পেসারের করা শেষের দুই ওভারেই দুলতে থাকা ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসে। আর এই ম্যাচে যে পরিমান টেনশনে ছিলেন তাসকিন তেমনটা নিজের অভিষেকেও ছিলেন না বলে জানান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩ সদস্যের চুড়ান্ত স্কোয়াডে ছিলেন না তাসকিন তবে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইসিসি অফিশিয়ালভাবে এই পেসারের অ্যাকশনের ইতিবাচক ফলাফল জানায়। এরপরেই জাতীয় দলের স্কোয়াডে যুক্ত হোন তাসকিন। তার একদিন পরেই ২৫ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে যান এই তরুণ পেসার।

বিশাল চাপ নিয়ে বোলিং করতে গিয়ে শুরুতে একদম লাইন লেন্থ হারিয়ে ফেলেন তাসকিন। প্রথম তিন ওভারের স্পেলে ২৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূন্য। এরমাঝে তিন নাম্বারে ওভারে দিয়েছেন ১৭ রান। এরপর দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেন ২৭ তম ওভারে। সেই স্পেলে ২ ওভার বোলিং করে ১২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পান নি। এরপর তৃতীয় স্পেলে ১ ওভারে ৯ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রথম তিন স্পেলে ৬ ওভার করে দেন ৪৯ রান।

আফগানিস্তানের শেষ তিন ওভারে যখন ২৭ রান দরকার তখন মাশরাফি আবার বোলিংয়ে নিয়ে আসেন তাসকিনকে। কিন্তু খেলার প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন করে সেই ৪৮ তম ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে তুলে নেন আফগান দলের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক স্টানিকজাইকে।

ম্যাচে শক্তিশালীভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপর ম্যাচের শেষ ওভারে বোলিং করতে আসেন তাসকিন। সেই শেষ ওভারে জিততে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৩ রান আর হাতে ছিল ২ উইকেট। কিন্তু তাসকিন অসাধারণ লেন্থ আর লাইনে বল করে আফগানদের ৪ রানের বেশি নিতে দেন নি। পাশাপাশি ম্যাচের সেই ওভার থেকে পেয়েছেন ২ উইকেট। ফলাফল বাংলাদেশ জিতেছে ৭ রানে। 

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুশীলন শেষে তাসকিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, (২৫ সেপ্টেম্বর) ভীষণ টেনশনে ছিলাম। সত্যি বলতে কী, আন্তর্জাতিক অভিষেকেও এত টেনশন কাজ করেনি আমার!”
এদিকে তাসকিনের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালস ও অধিনায়ক মাশরাফি।