আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেই সিরিজ জিততে চান টাইগার মাশরাফি বাহিনী

আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজ। আর এই সিরিজ দিয়েই দশ মাস পর আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে ফিরবে বাংলাদেশ। এর আগে একদিনের ক্রিকেটে মাত্র দুইবার দেখা হয়েছিলো এই দুই দলের। সেখানে ফলাফল ১-১। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো উন্নতি করেছে আফগানিস্তান।  গতকাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ সংক্ষিপ্ত ফরমেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেখানে আফগানিস্তানকে সমীহ করার বিষয়টি জানালেও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কথা বলেছেন টাইগার দলপতি।

সর্বশেষ পাঁচটি একদিনের সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আফগানদের বিপক্ষে আক্রামণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায় মাশরাফি। তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা যেভাবে শেষ করেছি সেভাবেই খেলা শুরু করতে চাই। অনেক সময় আমাদেরকে রক্ষণাত্মক খেলতে হয়। শুরুতে আমরা চাইব আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে। সেরা ক্রিকেট বলতে অবশ্যই এটা না যে মানসিকভাবে আমরা রক্ষণাত্মক হয়ে খেলব।”

গত (শুক্রবার) বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একমাত্র অনুশীলন ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। তাদের বোলিং শক্তি এই ম্যাচে চোখে পড়েছে। এদিকে মাশরাফি আফগানদের বোলিং অ্যাটাককে সম্মান জানালেও নিজের বোলারদের উপর বিশ্বাস রাখছেন, “আফগানিস্তানের বোলিং অ্যাটাক অবশ্যই খুব ভালো। আসলে তাদের পুরো দলটাকেই আমরা সম্মান করছি। অবশ্যই তারা ভালো দল। একটা ব্যাপার হচ্ছে আমরা নিজেরা বিশ্বাস করি বিশ্বের সেরা বোলিং লাইন আপ এখন আমাদের আছে। মূল হচ্ছে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ যখন আমরা খেলতে নামব তখন নিজেরা কি বিশ্বাস করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের নিজেদের বিশ্বাস, স্ট্রেন্থ নিয়েই আমরা খেলতে নামব।”

মাশরাফির বিশ্বাস সিরিজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবার কারণে আফগানিস্তানকে দলের কেউ হালকাভাবে নিবে না। তিনি বলেন, “সিরিজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক দিন পর মাঠে নামছি। এটা একটা চিন্তার বিষয়, তবে এটা ভালোও। চিন্তা থাকলে সবাই ভালো খেলবে। অবহেলা করবে না। এতে ফল আমাদের জন্য ভালো।”

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তিন ম্যাচের সিরিজের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। আর এই দুই সিরিজে জিততে পারলে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে টাইগারদের। তবে এসব বিষয় নিয়ে ভাবছেন না টাইগার অধিনায়ক, “এটা নিয়ে আমি আসলে কখনও চিন্তাই করিনি। পয়েন্ট টেবিলে এখন যেখানে আছি দেড় বছর আগে জানতাম না যে এখানে থাকবো। অতএব আমার কাছে মনে হয় না যে এটা ভাবার মতো কোন বিষয়।”

গত (শুক্রবার) আইসিসি থেকে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের উপর নিষেদ্ধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। আর তাসকিনের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মাশরাফি, “যেখান থেকে তাসকিন শেষ করেছিল সেখান থেকেই শুরু করবে। তাসকিনের মতো স্কিলফুল বোলার দলে থাকা আমাদের জন্য স্বস্তির।”

বাংলাদেশের সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এবার তাকে ছাড়াই নামতে হবে টাইগারদের। আর মুস্তাফিজের না থাকাটা বেশি চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের একদিনের ফরমেটের অধিনায়ক, “মুস্তাফিজ থাকতেও যে চ্যালেঞ্জ ছিল না সেটা না। এখনও একই চ্যালেঞ্জ, তবে আগের থেকে একটু বেশি অনুভূত হবে। নিশ্চিতভাবে আমাদের দলে যারা আছে তাদেরও ভালো করার সামর্থ্য আছে।”

তবে মুস্তাফিজ না থাকলেও দলে অধিনায়ক মাশরাফিসহ চারজন পেসার আছেন। বাকি তিনজন হলেন রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পেস অ্যাটাক এমনটিই ছিলো। তাই মাশরাফি বর্তমান দলের পেসারদের উপর আস্থা রাখতে চান। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আমাদের এই অ্যাটাক ছিল। যারা আছি তাদের প্রমাণ করার সুযোগ আছে। যারা এসেছে তাদেরও প্রমাণ করার সুযোগ আছে। আমরা বেস্ট অ্যাটাকেই আছি।”

সিরিজ জেতার প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, “আমরা আমাদের সেরা খেলা খেলব। সিরিজও জিততে চাইব।”

উল্লেখ্য, ২৫ ও ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দুইটি ম্যাচ ও ১ অক্টোবর হবে আফগানিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজের শেষ ম্যাচ। সিরিজের সবগুলো ম্যাচেই হবে দিবা রাত্রি। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে।