অ্যান্ডারসনের সঙ্গে হঠাৎ অশ্বিনের ঝামেলা

স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা ওয়াংখেড়ে। খেলা শুরু হচ্ছে না কেন?‌ এ প্রশ্ন তুলে আমরা তাকিয়েছিলাম মাঠের মাঝখানে। কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে দেখতে পাওয়া গেল প্যাভিলিয়ন থেকে হেঁটে আসা অ্যান্ডারসনকে দেখেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন কী যেন বলছেন। পাশেই ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। দেখতে দেখতে বৃত্তটা বড় হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখতে পাওয়া গেল আম্পায়াররাও এসে ঢুকে পড়েছেন। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল একটা অপ্রীতিকর কান্ড ঘটছে। এবং তিন মিনিট খেলা ছিল বন্ধ। এমনিতেই এদিন ১০ টা বেজে ২ মিনিটে ইংল্যান্ডকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। মাত্র ৮ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে কুকের ইংল্যান্ডকে আরও লজ্জার সাগরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল টিম ইন্ডিয়া।

কিন্তু হয়েছিল কি?‌ ঝামেলাটাই বা কীসের?‌
উত্তর পাওয়ার জন্য আমরা বরং ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছে জানতে চাইব, ‘‌এই প্রথম মাঠের ঝামেলায় আমি শান্ত ছিলাম। এবং সবাইকে বুঝিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলাম। জানতাম না আমাদের বোলিং বিভাগ এবং অশ্বিনকে নিয়ে কী বলেছিল অ্যান্ডারসন প্রচারমাধ্যমে। এদিন মাঠে নামার পর প্রথম জানতে পারি অ্যান্ডারসনের বক্তব্য। অশ্বিনই বলেছে আমায়। ‌প্রথমে শুনে তো আমি হেসেছিলাম। কিন্তু অশ্বিনকে তো চেনেন। যদি কোনও ব্যাপারে ওর অসন্তোষ থেকে থাকে তাহলে ও যাবতীয় যুক্তির জাল মেলে কথা বলে যাবেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেই। ভারতীয় বোলারদের সম্পর্কে কটাক্ষ করেছিল অ্যান্ডারসন। অশ্বিনকে কৃতিত্ব দিতে চায়নি। এটা অন্যায় মনে করে, কোনো গালাগাল না দিয়ে অশ্বিন যা বলেছে তার মর্ম এরকম, ‘‌খেলতে না পারলে ব্যর্থতার দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর কোনও অধিকারই নেই। পরাজয়কে স্পোর্টিংলি মেনে নেয়া যায় না?‌ উত্তেজনা বাড়ছিল। আমি থামাই সবাইকে। এবং অ্যান্ডারসনকে গিয়ে বলি, এসব হতেই থাকে। চলো আমরা খেলাটা শুরু করি।’‌

ততক্ষণে ৯ উইকেট পড়ে গেছে। বাকি ছিল একটি উইকেট। কী আশ্চর্য অ্যান্ডারসনকে তুলে নিলেন সেই অশ্বিনই। বোলার অশ্বিন সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকলেও ইংরেজ সেনাপতি অ্যালিস্টার কুকের কিন্তু মেনে নিতে অসুবিধা হয়নি যে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে খেলা খুব কঠিন, ‘‌গত ২ বছর ধরে ওর বোলিংয়ে দুর্দান্ত উন্নতি ঘটেছে। লেংথে থাকে অবিচল। একজন স্পিনারের তো এটাই সবচেয়ে বড় গুণ। অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, প্রচুর বৈচিত্র নিয়ে বোলিং করছে। ২ বছর আগের অশ্বিনের সঙ্গে এই অশ্বিনের অনেক ফারাক। কৃতিত্ব দিতেই হবে অশ্বিনকে।’‌ এবং সেই সঙ্গে তিনি এদিন মাঠে হওয়া ঝামেলা সম্পর্কে বললেন, ‘‌দুটো দলের মধ্যে চলতি সিরিজে যথেষ্ট ভাল ক্রিকেটীয় স্পিরিট ছিল। শেষবেলায় এমন হল কেন?‌ অ্যান্ডারসন এভাবে মন্তব্য করে ঠিক করেনি। আমি এ ব্যাপারে বিরাটের বক্তব্য শুনেছি। একেবারে ঠিকঠাক বিশ্লেষণ। অকারণে বিপক্ষ দলের দিকে আঙুল তোলাটা আমি সমর্থন করছি না।’‌ একইসঙ্গে কুক কিন্তু অশ্বিনের যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দিলেন এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে নিজের মতামত স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন।
অশ্বিনকে এখন ধরবেন কে?‌ শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড- এই চারটি সিরিজে অশ্বিনই ম্যান অফ দ্য সিরিজ। চলতি সিরিজে বিরাট কোহলির সঙ্গে তার টক্কর চলছে সিরিজ সেরা হওয়া নিয়ে। চেন্নাইয়ে যদি, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮-‌১০টা উইকেট নাও পান তাহলেও আমরা বলব যে অশ্বিন না থাকলে ভারত সাম্প্রতিক অতীতে এত ম্যাচ জিততে পারত না।-নয়া দিগন্ত অনলাইন