অভিষিক্ত মোসাদ্দেকের ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৮

৩ উইকেটে ১২২ রান। সেখান থেকে ১৪১ রানে নেই ৭ উইকেট! বাংলাদেশের ইনিংস যখন ধ্বংসস্তুপ তখন দাঁড়িয়ে যান ২০ বছরের মোসাদ্দেক হোসেন। অভিষেক ম্যাচ তার। তারপর  সঙ্গী তিন বোলার। কিন্তু এই অসম্ভব কঠিন পরিস্থিতিতেও ঠাণ্ডা মাথায় লড়ে গেলেন মোসাদ্দেক। তার সেই লড়াইয়ের ফলেই শেষ পর্যন্ত ২০৮ রান পেয়েছে টাইগাররা।

৪ বল বাকি থাকতে অল আউট। ৪৫ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রানে অপরাজিত মোসাদ্দেক। মেরেছেন ৪টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কা। নইলে তো স্পিনের কাছে মাথা নত করে আরো বাজে অবস্থার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল টাইগাররা! ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে বোলারদের সামনে এখন কঠিন কাজ।

সাত নম্বরে মোসাদ্দেক যখন নামলেন তখন তার ওপর এমনিতে ওয়ানডে অভিষেকের চাপ। তার ওপর ৫ উইকেট নেই। চোখের পলকে নেই সাব্বির রহমান ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। চাপের ওপর চাপ। তখনো ১৬ ওভার বাকি। তামিম ইকবাল কিছুদিন আগ বলেছিলেন মোসাদ্দেকের মাথাটা ৪৫ বছরের মানুষের। সেই প্রমাণটাই মাত্র টিনএজ পার হওয়া ব্যাটসম্যান দিলেন।

স্পিনারদের সামলেছেন। প্রথমে তাইজুল ইসলামকে (১০) নিয়ে। তাইজুল ৩১ বল খেলে দিলেন। তাসকিন আহমেদ (০) টিনএজার লেগ স্পিনার রশিদ খানকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দিলেন। কিন্তু শেষে ৭.৪ ওভার রুবেল হোসেনকে (১৫ বলে ৯ রান) নিয়ে অবিচ্ছিন্ন থাকলেন মোসাদ্দেক।

৪৮তম ওভারে ১১ ও ৪৯তম ওভারে ১৬ রান আসে। দুই ওভারে ইনিংসের দুই ছক্কা মোসাদ্দেকের। শেষের আগের ওভারে এক ছক্কা, দুই বাউন্ডারি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট। কিন্তু ততক্ষণে দুইশো পেরিয়ে লড়ার আশা করার মতো একটি সংগ্রহ পেয়েছে টাইগাররা।

এই ম্যাচ জিতলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে টাইগারদের। আর এটি হবে তাদের শততম ওয়ানডে জয়। সেই ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার সেট হয়ে গেলেন। কিন্তু দুজনই বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন। দুজনই করেছেন সমান ২০ রান।

৫ রানের মধ্যে তামিম-সৌম্য ফেরার পর মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম চমৎকার ব্যাটিং উপহার দিলেন। তাতে ধাক্কাটা সামলে ৬১ রানের জুটি হয়ে গেলে তৃতীয় উইকেটে। এরপর আফগানদের বোলিংয় এমন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে স্বাগতিকরা তা আগে বোঝা যায়নি। মাহমুদ উল্লাহ (২৫) নাভিনের বলে বোল্ড। ১১ রান পর মুশফিক (৩৮) ক্যাচ তুলে ফিরলেন লেগি রহমত শাহর বলে।

আগের ম্যাচের সেরা সাকিব আল হাসান আর সাব্বির রহমানের জুটি হবে। এমনটা যখন আশা, তখন পতনের শুরু। মোহাম্মদ নবির বলে এলবিডাব্লিউর শিকার সাকিব (১৭)। টিভি রিপ্লে দেখে ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান বললেন, ব্যাটসম্যানের দুর্ভাগ্য। আগে ব্যাটে লেগেছে বল।

এখানে ৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নেই। রশিদ তুলে নেন সাব্বিরকে (৪), নবি মাশরাফিকে (২)। মোসাদ্দেককে এরপর নিতে হয় বড় দায়িত্ব। আর তরুণ ব্যাটসম্যান প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন, সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও রাখতে হবে তাকে। — কালের কণ্ঠ অনলাইন