অভিজ্ঞতারই জয় হলো মিরপুরে

অবশেষে জয় হলো অভিজ্ঞতারই। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারী আফগানিস্তানকে ৭ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের দেয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ খেলেও শেষ মূহুর্তে অভিজ্ঞ টাইগার পেসারদের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো তারা। ৪১ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা হাসমতুল্লাহ শহিদি ও রহমত শাহর ১৪৪ জুটি ভাঙেন অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

৯৩ বলে ৭১ রান করে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন রহমত শাহ। পরের ওভারে ৭২ রানে তাইজুলের শিকারে পরিণত হন হাসমতুল্লাহ। এরপর মোহাম্মদ নবী ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। ৪৮ তম ওভারে নবী ও স্ট্যানিকজাইকে ফিরিয়ে তাদের ম্যাচকে থেকে ছিটকে দেন তাসকিন। ১৮ বলে ২৭ রানের সহজ সমীকরণের সামনে দাড়িয়ে তখন আফগানরা। তাসকিনের ওই ওভারটিই বাংলাদেশের বুক থেকে নামিয়ে দেয় পাহাড় সমান বোঝা। এরপর লেট অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কোন চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি বাংলাদেশকে।

৪৯তম ওভারে রশিদ খানকে বোল্ড করেন রুবেল হোসেন। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল আফগানদের, হাতে এক উইকেট। মাত্র ৫ দিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে দাওলাত জাদরানকেও আউট করেন তাসকিন। ৮ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তনটাই হলো তাসকিনের। টাইগারদের হয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম আঘাত হেনেছেন অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। এর রেশ ফুরাতে না ফুরাতে সাকিব আল হাসান নেন আরেক উইকেট।  দুজনেই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে আফগানিস্তানকে ২৬৬ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার তামিম ইকবাল দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮০ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন। অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান করেন ৪৮ রান। আফগানিস্তানের হয়ে সর্বাধিক ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন দৌলত জাদরান।

দু’টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। যদিও টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের পঞ্চম বলেই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার (০)। দলীয় ১ রানে সৌম্যর বিদায়টা বিপদের ঘনঘটা বয়ে আনেনি। ব্যাট হাতে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে আর্বিভূত হন তামিম ও ইমরুল। ওয়ানডে দলে আসা-যাওয়ার মাঝে থাকা ইমরুল ব্যাটিং করেছেন পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে। ক্রমশই লম্বা হতে থাকা তামিম-ইমরুলের ৮৩ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ১৯তম ওভারে।

নবীর নিচু হয়ে আসা বলটা ইমরুলের ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেয়। বিদায়ের আগে ইমরুল করেন ৩৭ রান। ইমরুল ফিরে গেলেও দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়ার কাজটাই করছিলেন তামিম। ইনিংসে ১৫ রান করতেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যান ৬৩ বলে।

সেঞ্চুরিও প্রায় দৃষ্টিসীমায় ছিল। কিন্তু তার মনোসংযোগে চিড় ধরে ৩৬তম ওভারে। মিরওয়াইস আশরাফের করা ওভারের প্রথম বলে লং অফে ক্যাচ দিলেন তামিম। ইতি ঘটে তামিম-মাহমুদউল্লাহর ৭৯ রানের জুটির। ৯৮ বলে ৯টি চারে ৮০ রান করেছেন তামিম। রয়ে-সয়ে শুরু করা মাহমুদউল্লাহও একটা সময় খোলস ছাড়িয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দৌলত জাদরানের ৩৮তম ওভারে দু’টি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৬৫ বলে। নবীর শিকার হওয়ার আগে ৭৪ বলে ৬২ রান (৫ চার, ২ ছয়) করেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিং অর্ডারে একধাপ অবনমন হওয়া মুশফিক (৬) ও সাব্বির (২) সুবিধা করতে পারেননি।

দু’জনই লেগ স্পিনার রশিদ খানের শিকার হন। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসা সাকিব খেলে গেছেন স্বরুপে। ২ রানের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি। ৪০ বলে ৪৮ রান করা সাকিব ৪৮তম ওভারে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। শেষ দিকে তাইজুলের ১১ রানের ইনিংসে আড়াইশ’ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। আফগানদের পক্ষে দৌলত জাদরান ৪টি, নবী-রশিদ খান ২টি করে উইকেট পান।