ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে যা করেন সুন্দরী

ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে রোজগারে নেমেছিলেন দুর্গাপুরের মৌসুমী ভট্টাচার্য। তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের সূত্র ধরেই বিশ্বনাথের মতো একাধিক বন্ধু তৈরি হয়েছিল মৌসুমীর।

হাইপ্রোফাইল জীবনযাপনের নেশায় তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দিনে নিজের বাড়িতে ডেকে রাত কাটাতেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে অন্যজন রাত কাটালেও তাতে কোনও আপত্তি ছিল না মৌসুমীর স্বামী শান্তনু ভট্টাচার্যর। সে বাড়িরই অন্য রুমে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন তিনি। প্রতি সন্ধ্যায় স্ত্রীর কাছে শুধু তার চাহিদা ছিল দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল।

ফেসবুক বন্ধু বিশ্বনাথ নাগের সঙ্গে তিন রাত কাটিয়ে অবশেষে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খুন করেন মৌসুমী। এমন সন্দেহে দু’জনেই এখন পুলিশ হেফাজতে। পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকের প্রোফাইলে সার্চ করে সরকারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতেন ওই গৃহবধূ। নিজে থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে জালে তুলতেন তিনি।

ভারতের ধানবাদের ঝরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বিশ্বনাথ নাগকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েই কথার জালে ফাঁসিয়েছিলেন সুন্দরী মৌসুমী। হাইপ্রোফাইল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন বীথির ওই বাসিন্দা। সেই খরচ তুলতেই তিনি নতুন নতুন বন্ধুদের আকৃষ্ট করতেন। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য তিনি প্রায়ই ফেসবুকে নিত্য-নতুন পোজে ছবি আপলোড করতেন।

বুধবার রাতে পুলিশ মৌসুমীর বাড়িতে গিয়ে বিশ্বনাথের দেয়া স্কুটি, মোবাইলসহ বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী নারায়ন মিনা বলেন, ওদের জেরা করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ওরা সবকিছু সঠিক বলছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরেও মৌসুমী ওরফে মৌ ভেঙে পড়েননি। উল্টো তিনি বিশ্বনাথের মৃত্যুকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করছেন।

পুলিশকে তিনি জেরায় জানিয়েছেন, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর তিনি নিজে থেকেই হাই হ্যালো জাতীয় মেসেজ পাঠিয়ে চ্যাট শুরু করতেন। নতুন বন্ধু সত্যিই কোনও সরকারি সংস্থা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কিনা তা কথার ছলে নিশ্চিত হওয়ার পরই মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হতো।

সুযোগ বুঝে ডেটিংয়েও যেতেন মৌসুমী। তবে সম্প্রতি বিশ্বনাথের সঙ্গেই তার সম্পর্ক গভীর হয়েছিল। তিনি বিশ্বনাথকে কখনও তার স্বামীর বিজনেস পার্টনার, কখনও আবার মাসির ছেলে বলে পরিচয় দিতেন।

শান্তনু ও মৌসুমীর বাড়ির পরিচারিকা জুলি যাদব বলেন, দোতলা ঘরের েপর তলায় দুটি বেডরুম আছে। একটিতে শান্তনু থাকতেন। সেখানে প্রতিদিনই মদের বোতল এবং গ্লাস নিয়ে পড়ে থাকতেন। অন্য ঘরে অচেনা যুবকের সঙ্গে মৌসুমীকে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম। জিজ্ঞাসা করলে আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেন।

পাড়ার এক গৃহবধূ বলেন, শুধু একজন নয়, প্রায় রাতেই নতুন নতুন ছেলেদের বাড়িতে আসতে দেখতাম। ওরা কারও সঙ্গে মিশত না। দামি ব্র্যান্ডেড পোশাক পরা থেকে নিয়মিত পার্লারে যাতায়াত, মৌসুমীর চাল চলনই ছিল অন্যরকম।

এদিকে মেয়ের এ পরিণতি হবে তা যেন জানতেন বাবা-মা। তার বাবা-মা বলেন, মেয়ে আমাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। ও যে অন্যপথে চলে গেছে তা আন্দাজ করেছিলাম।